মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে ধন্যবাদ শান্তনু সেনের (ইটিভি ভারত)
কলকাতা, 24 min: রাজ্যে পালাবদলের পর থেকে রাজনৈতিক সমীকরণেও নিত্যনতুন বদল চোখে পড়ছে। এবার নতুন বিজেপি সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জানালেন প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ তথা চিকিৎসক নেতা শান্তনু সেন। তবে কৌশলে বুঝিয়ে দিলেন কোনও দলের নেতা হিসেবে নয়, চিকিৎসক এবং চিকিৎসকদের সংগঠনের নেতা হিসেবই ধন্যবাদ জানাচ্ছেন ৷
শনিবার রাতে সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে রাজ্যের স্বাস্থ্যক্ষেত্রে নতুন সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ ও উন্নয়নমূলক কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন তিনি। নেতার মুখে খোদ বিজেপি সরকার ও মুখ্যমন্ত্রীর স্তুতি ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই নতুন করে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। প্রবল অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে সদ্য প্রাক্তন শাসক শিবিরকে ৷
শান্তনুর পোস্ট
ওই পোস্টে শান্তনু স্বাস্থ্য পরিকাঠামো “চিকিৎসা আন্দোলনের দীর্ঘ দিনের সৈনিক হিসেবে এবং ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সর্বভারতীয় সভাপতি ও ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বেঙ্গল স্টেট ব্রাঞ্চের) বর্তমান রাজ্য সম্পাদক হিসেবে বাংলার নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার ও তার মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে রাজ্যের স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে একাধিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণমুখী প্রকল্প গ্রহণ আ আন্তরিক ধন্যবাদ, অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানাুন সরকারের স্বাস্থ্যনীতির প্রতি শান্তনুর এই প্রকাশ্য সমর্থন বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
শান্তনুর পূর্বাশ্রম
শান্তনু সেন একসময় তৃণমূলের প্রথম সারির নেতা এবং রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন। দলের মুখপাত্র হিসেবেও তাঁকে নিয়মিত সংবাদমাধ্যমে দেখা যেত। তবে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে মহিলা চিকিৎসকের মর্মান্তিক পরিণতির পর যে বিশাল গণ-আন্দোলন শুরু হয়, সেই সময়েই পূর্বতন শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হতে শুরু করে। তিনি নিজে আরজি করের প্রাক্তন ছাত্র ৷ বৈরিতা এতটাই বেড়ে যায় যে একটা সময় তাঁকে দল থেকে সাসপেন্ড করা হয় ৷ বিধানসভা নির্বাচনের আগে আবার তাঁকে তৃণমূলে ফিরিয়ে নেওয়া হয় ৷
আরজি করের ঘটনার সময় তৎকালীন প্রশাসন এবং স্বাস্থ্য ভবনের একাংশের বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, জুনিয়র চিকিৎসকদের ঐতিহাসিক আন্দোলনের প্রতি প্রকাশ্যেই সমর্থনও জানিয়েছিলেন। নাগরিক সমাজের ‘রাতদখল’ কর্মসূচিতেও তাঁর প্রচ্ছন্ন সমর্থন ছিল। পাশাপাশি, জুনিয়র চিকিৎসকদের ধর্নামঞ্চের পাশে দেখা গিয়েছিল স্ত্রীকেও। এরপরই দলের সঙ্গে তাঁর ফাটল চওড়া হয় এবং বিস্তর জলঘোলা হয় রাজ্য রাজনীতিতে।
বিজেপির ভূমিকা
সম্প্রতি রাজ্যে অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বাংলায় প্রথমবার সরকার গঠন করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি । মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসেছেন শুভেন্দু অধিকারী। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই রাজ্যে দুর্নীতি দমনে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়েছে। তোলাবাজি, হুমকি সংস্কৃতি (থ্রেট কালচার) এবং ভয় দেখানোর অভিযোগে ইতিমধ্যেই রাজ্যের প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক ছোট-বড় নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রথম দিনেই কড়া বার্তা দিয়ে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, দুর্নীতি বা কোনওরকম অন্যায়ের সঙ্গে সরকার আপস করবে না।
আরজি কর কাণ্ডের পর রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল, তা মেটাতে নতুন সরকার শুরু থেকেই তৎপর বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নয়ন, হাসপাতালগুলিতে নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং চিকিৎসা পরিষেবায় স্বচ্ছতা আনতে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার। শান্তনু সেনের মতো একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক নেতা, যিনি দীর্ঘ সময় ধরে চিকিৎসা ক্ষেত্রের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, তাঁর এই শংসাপত্র নতুন সরকারের জন্য বড়সড় প্রাপ্তি বলেই মনে করা হচ্ছে।
তৃণমূলের অস্বস্তি
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজ্যে ক্ষমতার হাতবদলের পর তৃণমূলের অন্দরে এখন কার্যত ছন্নছাড়া অবস্থা। দলের পুরোনো দিনের অনেক নেতাই এখন পূর্বতন সরকারের ভুলভ্রান্তি নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলছেন। অনেকেই নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে সন্দিহান। এই পরিস্থিতিতে আইএমএ (IMA)-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনের রাজ্য সম্পাদকের বিঝ প্রতি এই প্রকাশ্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ তৃণমূলের অস্বস্তি যে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার, আগামী দিনে শান্তনু সেন সরাসরি পদ্মশিবিরে যোগ দেন কি না, নাকি চিকিৎসক নেতা হিসেবেই নতুন সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে চলেন।