ঘূর্ণাবর্ত ও নিম্নচাপ অক্ষরেখার জোড়া ফলায় মে মাসের শুরুতেই ভিজছে বাংলা। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী ৭ মে পর্যন্ত উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা বজায় থাকবে। বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া একটি নিম্নচাপ এবং তার সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে আসা শক্তিশালী জলীয় বাষ্পপূর্ণ বাতাসের জেরেই এই অকাল বর্ষণ। গত ২৪ ঘণ্টায় ক্যানিংয়ে ১০৮ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা মে মাসের শুরুতে নজিরবিহীন। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রাক-বর্ষার এই সক্রিয় সিস্টেমের কারণে আগামী এক সপ্তাহ ধরে বৃষ্টির দাপট জারি থাকবে।
আরও পড়ুন-“
কলকাতাতেও বৃষ্টির দাপটে পারদ অনেকটাই নিম্নমুখী। গত কয়েক দিনে আলিপুরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৮.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছে, যা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশ কম। এপ্রিলের শেষ থেকে শুরু হওয়া এই বৃষ্টিপাতে কলকাতা ইতিমধ্যেই নতুন রেকর্ড গড়েছে। বুধবার রাত ৮টার পর থেকে কলকাতায় ব্যাপক বৃষ্টি শুরু হয়, যার ফলে এক ধাক্কায় তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে গিয়েছে। গত ৩০ এপ্রিল সন্ধ্যায় শহরে ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৫৫ কিমি। (IITM) একদিনে এত বেশি বৃষ্টিপাত কলকাতায় এর আগে মাত্র ছয়বার দেখা গিয়েছে। বৃহস্পতিবারও বৃষ্টিতে ভিজেছে শহর থেকে জেলা। আজও বিকেল গড়াতেই একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে হাওয়া অফিস।
আরও পড়ুন-“হার হজম করতে পারছেন না মমতা”, EVM নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগকে ‘নাটক’ বলে কটাক্ষ শমীকের
দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতেও দুর্যোগের ভ্রুকুটি দেখা দিয়েছে। জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিস থেকে ২০ সেমি পর্যন্ত অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এই প্রবল বৃষ্টির জেরে উত্তরবঙ্গের নদীগুলির জলস্তর বৃদ্ধি ও নিচু এলাকায় জলমগ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের পাহাড়ি এলাকায় ধস নামার সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন। দক্ষিণবঙ্গের ঝাড়গ্রাম, মেদিনীপুর ও দিঘার উপকূলীয় এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝোড়ো হাওয়ার দাপট সবথেকে বেশি। আমতায় ১০ সেমি এবং সল্টলেকে প্রায় ৬ সেমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
আরও পড়ুন-ভোট গণনার আগে চূড়ান্ত রণকৌশল! শনিবার বিকেলে দলের এজেন্টদের আ ক্লাস’ দেবেন মমতা-অভিষেক?
আবহাওয়াবিদদের মতে, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও সংলগ্ন বাংলাদেশের ওপর সমকে ০.৯ কিমি উঁচুতে একটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে। এর পাশাপাশি উত্তর উত্তরপ্রদেশ থেকে ছত্তিশগড় হয়ে ওড়িশা পর্যন্ত একটি অক্ষরেখা বিস্তৃত রয়েছে। এই দুই সিস্টেমের প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে আর্দ্রতা ঢুকছে, যা কালবৈশাখীর মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে মৎস্যজীবীদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ৪ মে পর্যন্ত সমুদ্র উত্তাল থাকার সম্ভাবনায় তাঁদের মাছ ধরতে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। আপাতত আগামী কয়েক দিন তিলোত্তমাসহ গোটা রাজ্যের তাপমাত্রা ৩০-৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যেই ঘোরাফেরা করবে বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন-বঙ্গতনয়ের মুকুটে বিশ্বজয়ের পালক! ক্যালকুলেটরও হার মানবে মেদিনীপুরের এই ছাত্রের রেজাল্ট দেখে
