নয়াদিল্লি: পঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনে এখনও বছরখানেক বাকি। তার আগেই রাঘব চাড্ডাকে ঘিরে তপ্ত হয়ে উঠছে রাজ্য রাজনীতি। খাতায় কলমে এখনও আম আদমি পার্টির সাংসদ রাঘব। তবে তিনি বিজেপি-তে যেতে পারেন, পঞ্জাবে গেরুয়া শিবিরের মুখ হতে পারেন জল্পনা তুঙ্গে। সেই আবহে পঞ্জাবের আম আদমি পার্টি সরকার যেই না রাঘবের নিরাপত্তা প্রত্যাহার করল, Z+ নিরাপত্তা দেওয়া হল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সূত্র্ দিল্লি এবং পঞ্জাব, দুই রাজ্যেই Z+ আ নিরাপত্তা পাবেন রাঘব। আধাসামরিক বাহিনী তাঁকে নিরাপত্তা দেবে। (Raghav Chadha Security)
এখনও পর্যন্ত প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে দিল্লি পুলিশকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, কেন্দ্রের তরফে বাহিনীর ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত তাদেরই রাঘবকে নিরাপত্তা দিতে হবে। রাঘবের বিপদ হতে পারে বলে গোয়েন্দা সূত্রে রিপোর্ট পাওয়ার পরই তাঁকে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা প্রদানের সিদ্ধান্ত বলে জানা গিয়েছে। (Raghav Chadha News)
বুধবার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই রদবদল চোখে পড়ে। AAP সরকার রাঘবকে দেওয়া Z+ নিরাপত্তা প্রত্যাহার করেছে বলে প্রথমে জানা যায়। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই খবর আসে, কেন্দ্রীয় সরকার রাঘবকে Z+ নিরাপত্তা দিচ্ছে বলে। এতদিন পঞ্জাব পুলিশই রাঘবকে নিরাপত্তা দিত। তবে দিল্লি সূত্রে খবর, গত সপ্তাহেই রাঘবের নিরাপত্তা তুলে নেয় পঞ্জাব সরকার। দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে টানাপোড়েনের জেরেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। এর পরই রাঘবকে নিরাপত্তা দিতে এগিয়ে যায় কেন্দ্র।
অরবিন্দ কেঝ হাতেখড়ি রাঘবের। একদা কেজরিওয়ালের ঘনিষ্ঠও ছিলেন রাঘব। একের পর এক গুরুদায়িত্ব হাতে পেয়েছেন অল্প বয়সেই। কিন্তু সাম্প্রতিক কালে সেই সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে বলে খবর। আবগারি দুর্নীতি মামলায় কেজরিওয়ালের গ্রেফতারি থেকে তাঁর ক্লিনচিট প্রাপ্তি, গোটা পর্বেই রাঘবকে দূরত্ব বজায় রাখতে দেখা যায়। দলের বৈঠক এড়ানো থেকে রাজ্যসভায় দলের নির্দেশ না মানার অভিযোগও ওঠে।
আম আদমি পার্টির তরফে প্রথমেই রাঘবকে রাজ্যসভার উপদলনেতা পদ থেকে সরানো হয়। সংসদকক্ষে যাতে তাঁর বক্তৃতার জন্য সময় বরাদ্দ না করা হয়, সেই মর্মে আবেদন জানানো হয় দলের তরফে। এর পর রাঘবের জায়গায় উপদলনেতা করা হয় অশোক মিত্তলকে, যাঁর বাড়িতে, সংস্থায় বুধবার সকাল থেকে তল্লাশি চালাচ্ছে ED. রাঘব যদিও এখনও পর্যন্ত নিজের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে কিছু জানাননি। তবে তিনি বিজেপি-তে যোগ দিতে চলেছেন, আগামী বছর পঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনে তিনি গেরুয়া শিবিরের মুখ হতে পারেন বলেও জোর জল্পনা জাতীয় রাজনীতিতে।
