বিশ্বকাপের মঞ্চে এই ব্রোঞ্জ মেডেলের লড়াইয়ের সূচনা ১৯৩৪ সালে, টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সংস্করণে। সে বার অস্ট্রিয়াকে ৩-২ গোলে হারায় জার্মানি। ১৯৫০ সালের রাউন্ড-রবিন ফরম্যাটের বিশ্বকাপ বাদ দিলে, ১৯৫৪ থেকে এটি নিয়মিত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে, সবচেয়ে বেশি চারবার এই ব্রোঞ্জ জিতেছে জার্মানি (third place elimination) আবার এহেন লড়াই তৈরি হয়েছে একাধিক বিশ্বরেকর্ডও। ২০০২ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে মাত্র ১১ সেকেন্ডে গোল করেছিলেন তুরস্কের হাকান সুকুর। ১৯৫৮ সালে পশ্চিম জার্মানির বিরুদ্ধে এক ম্যাচেই চার গোল করে টুর্নামেন্টে ১৩ গোলের রেকর্ড গড়েছিলেন ফরাসি তারকা জাস্ট ফন্টেইন।
গোল্ডেন বুটের হাতছানি ও কোচেদের ক্ষোভ
ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানে জোর দেওয়ার মোক্ষম সুযোগ এই দ্বৈরথ। ইউসেবিও, সালভাতোর স্কিলাচি, দাভোর সুকের বা টমাস মুলার—প্রত্যেকে গোল করে নিজেদের গোল্ডেন বুট নিশ্চিত করেছেন। এবারও কিলিয়ান এমবাপে এবং হ্যারি কেনের সামনে সেই একই সুযোগ। তবে এই ম্যাচের অস্তিত্ব নিয়ে কোচেদের মধ্যে বরাবর চরম ক্ষোভ।
২০১৪ সালে নেদারল্যান্ডসের তৎকালীন কোচ লুই ‘ম্যাচটা খেলা উচিত নয়। গত ১০ বছর ধরে আমি এই কথাই বলছি। এটা অন্যায়। সবচেয়ে খারাপ দিক হল, পরপর দুটো ম্যাচ হারার সম্ভাবনা থাকে। দারুণ একটা টুর্নামেন্ট খেলেও শেষে একরাশ ” ২০১৮ সালেও ঠিক একই সুর শোনা গিয়েছিল ইংল্যান্ড কোচ গ্যারেথ সাউথগেটের গলায়। ” ”
প্রত্যাশা ও নিরর্থকতার দোলাচল
প্রাক্তন ইংরেজ স্ট্রাইকার অ্যালান শিয়েরারও তৃতীয় স্থানাধিকারীর লড়াইকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। ২০১৮ সালের সেই ম্যাচের আগে তিনি এক্সে তখনকার টুইটার স্থানের ম্যাচ খেলা চরম বোকামি। ”
তবে সব দেশ যে এই ম্যাচকে হালকাভাবে নেয়, তা নয়। অনেক দলের কাছেই প্রথম তিনে শেষ করাটা বিশাল গর্বের বিষয়। ১৯৯৪ সালে বুলগেরিয়াকে ৪-০ গোলে হারিয়ে সুইডেনের তৃতীয় হওয়া বা ১৯৯৮ সালে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে ক্রোয়েশিয়ার ব্রোঞ্জ জয় সে দেশে আজও প্রবল উৎসাহে উদযাপিত হয়। নিরপেক্ষ দর্শকদের কাছে এই ম্যাচ মানেই গোলের বন্যা। ১৯৭৪ সালে পোল্যান্ডের ১-০ ব্যবধানে জয়ের পর থেকে, আজ পর্যন্ত প্রতিটি তৃতীয় স্থানের খেলায় অন্তত দুটি বা তার বেশি গোল হয়েছে।
